“সর্দি কেন হয়”সর্দি হতে মুক্তির কিছু ঘরোয়া উপায়।

0
134
Credit: femina.in

সর্দি আমাদের অতি পরিচিত একটি অসুখ।
এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না যার জীবনে কখনো সর্দি হয়নি।
মানুষ যে সকল রোগে সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত হয় সর্দির ভাইরাস এর মধ্যে প্রথম।
বয়স্ক মানুষ বছরে ২ থেকে ৩ বার এবং শিশু বছরে ৬ থেকে ১২ বার সর্দি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়।
শীতকাল আসলে এর প্রকোপ অনেক বৃদ্ধি পায়।

লক্ষণ:
গলাব্যথা, নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে পানি পড়া, জ্বর।
ক্ষেত্র বিশেষে মাথা ব্যথা, মাংস পেশীতে ব্যথা, রুচি কমে যাওয়া ইত্যাদি।
স্থায়িত্বকাল সাত থেকে দশ দিন।
ক্ষেত্র বিশেষে সবোর্চ্চ তিন সপ্তাহের মতও থাকতে পারে।

যেভাবে সংক্রমণ হয়ঃ
সর্দির ভাইরাস কণিকাগুলো দূষিত আঙ্গুল বা দূষিত বাতাস থেকে আমাদের নাকের ভিতর জমা হয়।
অতি অল্প সংখ্যক ভাইরাস কণিকা (১-৩০) সংক্রমণের জন্য যথেষ্ঠ।
এরপর ভাইরাস কণিকা গুলো নিজে নিজে নাকের ভিতরের adenoid নামক এলাকায় প্রবেশ করে।
ভাইরাস কণিকা গুলো অনুনাসিক কোষ পৃষ্ঠের উপর অবস্থিত রিসেপ্টর (ICAM 1) এর সাথে যুক্ত হয়। এই রিসেপ্টর ভাইরাস পৃষ্ঠের উপর ডকিং পোর্ট নামক অংশের সাথে মিশেযায়।
রিসেপ্টর এর সাথে যুক্ত হওয়ার পরভাইরাস একটি কোষের মধ্যে সংক্রমণ হওয়া শুরু করে।
এরপর সংক্রমিত কোষে নতুন ভাইরাস কণিকা উৎপাদন শুরু হয়।
তখন সংক্রমিত কোষগুলোর মৃত্যু ঘটে।
এভাবে নতুন কোষে ভাইরাস সংক্রমন ঘটে এবং নতুন নতুন ভাইরাস কণিকা উৎপাদিত হয়।
এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং এর ফলে আমরা সর্দিতে আক্রান্ত হই।

সর্দি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়ঃ
আমরা কিছু কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে অতি সহজে সর্দি থেকে রক্ষা পেতে পারি।

credit: beshto.com

এর মধ্যে কয়েকটি নিচে লিখা হলঃ
–> সর্দি কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচি থেকে কমপক্ষে তিন ফুট দূরে অবস্থান করুন।
কারণ কাশির জীবাণু খুব সহজেই আপনার চোখ অথবা নাকের ভেতর দিয়ে সংক্রমিত হতে পারে।
–> হাত সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
কারণ হাঁচি বা কাঁশির সাথে নির্গত ঠাণ্ডার জীবাণু যে কোন বস্তুতে লেগে থাকতে পারে।
স্পর্শের মাধ্যমে তা হতে সংক্রমণ হতে পারে।
–> পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি গ্রহণ করুন।
যথেষ্ট পরিমাণে (কমপক্ষে দৈনিক আট গ্লাস) পানি গ্রহণ শরীর বিশুদ্ধ রাখে এবং দেহ থেকে জীবাণু নির্গমনে সাহায্য করে।
–> আঙ্গুল দিয়ে ঘন ঘন নাক অথবা চোখ খুটবেন না।
–> বিছানায় শুয়ে না থেকে হাঁটাহাঁটি বা মৃদু ব্যায়াম করুন।
–> রাতে যথেষ্ট পরিমাণে ঘুমান।
–> কম চর্বিযুক্ত চিকেন স্যুপ খান।
কারণ গরম গরম চিকেন স্যুপ প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান সরবরাহ করে দেহকে ঠাণ্ডা-সর্দির জীবানুর সাথে যুদ্ধে সাহায্য করে।

সর্দি হলে করণীয়ঃ
কফ কাশি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, গলা ব্যথা, জ্বর ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলে রেজিস্ট্যার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনে ঔষধ গ্রহণ করুন।

জেনে নিন সর্দি-কাশি দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায়-

দুধ ও হলুদ : দুধ যে কোনো বয়সের জন্যই সমান উপকারী। এক গ্লাস গরম দুধের মধ্যে ১ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন। হলুদে অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে, যা সহজেই সংক্রমণ রোধ করে। ফলে সর্দি-কাশির কষ্ট থেকেও রেহাই পাওয়া সম্ভব হয়।

আদা চা : সর্দি-কাশি দূর করতে আদা চায়ের জুড়ি মেলা ভার। আদা কুচি করে গরম পানি বা গরম চায়ে দিয়ে পান করুন। এতে সর্দি-কাশির সমস্যা একেবারেই দূর হবে।

লেবু ও মধু : লেবু ও মধুর মিশ্রণটিও আদা চায়ের মতোই অত্যন্ত উপকারী। এক গ্লাস গরম পানিতে দুই চা চামচ মধু ও এক চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে সর্দি-কাশি দূর হবে।

তুলসী পাতা ও আদা : এক কাপ পানিতে কয়েকটা তুলসী পাতা ও আদা কুচি ফেলে ফোটাতে থাকুন। পানি ফুটে অর্ধেক হয়ে এলে তা নামিয়ে রাখুন। এবার এই পানি দিনে অন্তত দু’বার পান করলে সর্দি-কাশি কমে যাবে।

রসুন : এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে, যা সর্দি-কাশির মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়া, অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিফাংগাল উপাদান রয়েছে, যা সংক্রমণ রুখতে পারে। চাইলে চার-পাঁচ কোয়া রসুন ঘিয়ে নেড়ে নিয়ে গরম থাকতে থাকতে খেয়ে নিন। ঘিয়ে ভাজা রসুন সুপের সঙ্গে মিশিয়ে খেলেও আরাম পাবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে