ব্রাজিলিয়ান স্টার “দা সিল্ভা স্যান্তোস জুনিয়র” ওরফ “নেইমার”এর জিবন কাহিনি ও টার্নিং পয়েন্ট।

0
164
Credit: independent.co.uk

নেইমারের জীবন কাহিনী
নেইমার দা সিল্ভা স্যান্তোস জুনিয়র, জন্ম ৫ ফেব্রুয়ারি
১৯৯২ । সাধারণত নেইমার নামে পরিচিত, একজন
ব্রাজিলীয় পেশাদার ফুটবলার, যিনি স্পেনীয় ক্লাব
বার্সেলোনা এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে একজন
ফরোয়ার্ড । তিনি আধুনিক বিশ্বের উদীয়মান
ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম।
নেইমার ডা সিল্ভা জন্মগ্রহণ করেন সাও পাওলো,
ব্রাজিলে সিনিয়র নেইমার ডা সিল্ভা এবং নান্দিনি
সান্তসের ঘরে। তিনি তাঁর পিতার নামের অনুসারে নাম
পান, যিনি একজন প্রাক্তন ফুটবলার এবং পরবর্তীতে
নেইমারের পরামর্শক যখন নেইমার তাঁর প্রতিভা দেখানো শুরু করলেন। নেইমার তাঁর পিতার ভুমিকা
সম্পর্কে বলেন, “আমার পিতা আমার পাশেই থাকেন সেই
ছোটবেলা থেকেই, তিনি সবকিছুর খেয়াল রাখেন, আমার
সঙ্গিনী এবং আমার পরিবারের।
২০০৩ সালে, নেইমার তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাঁও
ভিসেন্তে চলে আসেন। সেখানে তিনি যুব পর্তুগিসা সানতিস্তাতে খেলা শুরু করেন। ২০০৩ এর শেষে তাঁরা
সান্তসে চলে আসেন। সেখানে নেইমার সান্তস ফুটবল
ক্লাবে যোগ দেন।
বিভিন্ন মর্যাদাক্রম অতিক্রম করে তিনি মূলদলে নিজের
যায়গা করে নেন। তিনি সান্তসের হয়ে প্রথম আবির্ভাব
করেন ২০০৯ সালে। ২০০৯ সালে তিনি কম্পেনাতো পুলিস্তার শ্রেষ্ঠ যুবা খেলোয়ার নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে সান্তসের ২০১০ কম্পেনাতো পুলিস্তা জয়,
নেইমারের শ্রেষ্ঠ খেলোয়ার নির্বাচিত হওয়া এবং ২০১০
কোপা দো ব্রাজিলে ১১ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা
পুরষ্কার পান। তিনি ২০১০ সাল শেষ করেন ৬০ খেলায় ৪২
গোল করার মাধ্যমে। ২০১০ সালে ৩য় হওয়ার পর নেইমার ১৯ বছর বয়সে ২০১১ এবং
২০১২ সালে দক্ষিণ আমেরিকার বর্ষসেরা ফুটবলার
নির্বাচিত হন।২০১১ সালে নেইমার ফিফা ব্যালন
ডি’অরের জন্য মনোনয়ন পান, তবে ১০ম স্থানে আসেন।
তিনি ফিফা পুস্কাস পুরষ্কারও অর্জন করেন। তিনি
সর্বাধিক পরিচিত তাঁর ত্বরণ, গতি, বল কাটানো, সম্পূর্ণতা এবং উভয় পায়ের ক্ষমতার জন্য। তাঁর খেলার ধরন
তাকে এনে দিয়েছে সমালোচকদের প্রশংসা, সাথে প্রচুর
ভক্ত, মিডিয়া এবং সাবেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার
পেলের সঙ্গে তুলনা। পেলে নেইমার সম্পর্কে বলেন,
“একজন অসাধারন খেলোয়ার।” অন্যদিকে রোনালদিনহো
বলেন, “নেইমার হবে বিশ্বসেরা।

credit : redbull.com

ব্রাজিল জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার আগে থেকেই নেইমারের নাম ডাক থাকলেও কনফেডারেশন্স কাপ নেইমারের তারকখ্যাতি বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণে। ২১ বছর বয়সী এই প্রাণচঞ্চল তরুণ ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত নবম ফিফা কনফেডারেশন্স কাপে আরেকবার চিনিয়েছেন নিজের জাত। বিশ্বের বাঘা ফুটবলারদের পেছনে ফেলে আসরের সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন। এ আসরে নেইমার ৪ গোল করেন। নিজ দেশ ব্রাজিলকে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ে কারিগরের ভূমিকা পালন করেন। ফুটবল বোদ্ধাদের মতো কনফেডারেশন্স কাপই নেইমারের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট।

এর আগে অবশ্য ব্রাজিলের জার্সি গায়ে ২০১১ সালের কোপা আমেরিকা খেলেছিল নেইমার। আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্টে নেইমার ১ম রাউন্ডের ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ২ গোল করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই টুর্নামেন্টে ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বাদ হয়ে যায়।

এরপর ২০১২ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে ব্রাজিল দলের সঙ্গী হন নেইমার। ১ম ওয়ার্ম আপ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিল ২-০ গোলে জিতে, যার দুটি গোলেই ছিল নেইমারের অবদান। পুরো টুর্নামেন্টে নেইমার নিজে তিনটি গোল করেন এবং বেশ কিছু গোলে ভূমিকা রাখেন। এই টুর্নামেন্টে ব্রাজিল রৌপ্য পদক জয় করেন।  

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে