ফুটবল দুনিয়ার প্রিন্স “লিওনেল মেসির” ছোটবেলার কাহিনি

0
106
Credit: sportyghost.com

“আমাকে কেউ খেলায় নিত না” — লিওনেল মেসি আমার জন্ম রোজারিও শহরে। এই শহরটি আর্জেন্টিনার সান্তা ফে প্রদেশের সবচেয়ে বড় শহর। আমরা এই শহরের উত্তর দিকের ব্যারিও লাস হেরাসে খুব সাধারণ কিন্তু সুন্দর একটি বাড়িতে বাস করি। আমার থেকে বয়সে বড় পাঁচ ভাই আর কাজিনদের সঙ্গে আমি ছোটবেলায় খেলতাম। আমার এখনো মনে পড়ে, আমাদের ছেলেদের সেই ছোট দলটি প্রতি সপ্তাহের শেষে নিয়ম করে ফুটবল খেলত। আমি অনেক ছোটবেলায় প্রথম ফুটবল উপহার পেয়েছিলাম। তখন আমি অনেক ছোট; আমার বয়স মনে হয় তিন কিংবা চার হবে। সেটি আমার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার ছিল। তার পর থেকে ক্রিসমাস
হোক আর জন্মদিনই হোক না কেন, আমি সব সময়ই একটি উপহার চাইতাম সবার কাছে; সেটি হলো ফুটবল। আমি আমার উপহারগুলো জমিয়ে রাখতাম। আমি ফুটবল নিয়ে রাস্তায় খেলতে যেতাম না। যদি ফুটবল ফেটে যায় বা ফুটবলের গায়ে ময়লা পড়ে; এই ভয় ছিল আমার। মাঝেমধ্যে বল নিয়ে মাঠে যেতাম, তখন থেকেই আমি ফুটবলের প্রেমে পড়ি।

আমাদের বাড়ির চারপাশে সবুজ উদ্যান ছিল। কিন্তু ফুটবল খেলার জন্য কোনো মাঠ ছিল না। আমাদের বাড়ি থেকে খুব কাছেই একটি পরিত্যক্ত সামরিক ক্যাম্প ছিল, যেটি আমাদের কাছে ব্যাটালন নামেই পরিচিত ছিল। সেই ক্যাম্পে বেশ কটি বড় সবুজ ঘাসের উদ্যান ছিল। আমরা তারের বেড়া ডিঙিয়ে চুপি চুপি চোরের মতো সেই ক্যাম্পে চলে যেতাম। তারপর সারা দিন ফুটবল নিয়েই পড়ে থাকতাম।আমরা বেশির ভাগ সময়ই রাস্তায় ফুটবল খেলতাম। বাড়ির বাইরে যেখানেই সুযোগ পেতাম, সেখানেই আমরা ফুটবল খেলতাম। যদিও সে সময় রাস্তাঘাট এবড়োখেবড়ো ছিল। আমরা খুব ছোট একটি পরিবেশের মধ্যে থাকতাম। যার
কারণে সেখানে আমরা একে অন্যকে বেশ ভালোভাবেই চিনতাম।

credit: talksport.com

আমি সব সময় রাস্তায় ফুটবল খেলার জন্য মুখিয়ে থাকতাম। প্রায় সব সময় আমার সঙ্গে একটি বল রাখতাম।
বার্সেলোনায় আসার পরেই আমার সব বদলে যায়। আমি আমার সব বন্ধু, পরিবার আর আমার দেশ থেকে দূরে চলে আসি। আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই আমি স্পেনে পাড়ি জমাই। আমি মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকে বার্সেলোনার যুব দলের সঙ্গে প্র্যাকটিস শুরু করি। আমি সৌভাগ্যবান যে আমি একটি সাধারণ পরিবারে জন্মেছি। কিন্তু
স্রষ্টার কৃপায় আমাদের তেমন কিছুর অভাব ছিল না। আমার বাবা সারা দিন পরিশ্রম করে আমাদের জন্য সবকিছু নিয়ে আসতেন। আমাদের তিন ভাইয়ের যা যা লাগে তা আমার বাবাই নিয়ে আসেন। আমি কখনোই কোনো কিছুর অভাব বোধ করিনি। যখন ছোট ছিলাম তখন আমার বাবা ও চাচা সব সময় বিশ্বাস করতেন আমি নাকি বড় ফুটবলার হব। এটা সত্যি হতে শুরু করে যখন আমি বার্সেলোনার উদ্দেশে রওনা দিই। আমি যখন রোজারিওতে বয়স্ক দলের সঙ্গে প্রথম প্র্যাকটিস করি তখন আমার কোচ বার্সেলোনা যাওয়ার জন্য সব ব্যবস্থা করেন। তিনি তখন তাঁর মনের প্রশান্তির জন্য আমার জন্য একটি চুক্তিপত্র রেডি করেন ন্যাপকিনের ওপর লেখা সেই চুক্তিপত্রে আমি স্বাক্ষর করি। প্রথম
প্রথম বার্সেলোনায় এসে অনেক মন খারাপ করতাম। আমা একা একা লাগত। কান্নাকাটি করতাম। কিন্তু আমি তো স্বেচ্ছায় আমার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমার স্বপ্ন ছিল বার্সেলোনার প্রধান
দলের হয়ে ফুটবল খেলা। আমি শিশুদের বলব, তোমরা ফুটবল খেলাকে উপভোগ করার জন্য
খেলো। #ফুটবল খেলা সত্যিই আনন্দদায়ক। এর মাধ্যমে তুমি নতুন নতুন অনেক বন্ধু বানাতে পারবে। ফুটবল
তোমাকে ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নিতে সহায়তা করবেই। কিন্তু
সবার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো
খেলাধুলার আগে পড়াশোনা। তোমার পড়াশোনা শেষ করতে হবে। – (বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবলার আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। ক্লাব পর্যায়ে মেসি ও #বার্সেলোনা আজ মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তিনি ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ২১বছর বয়সে মেসি তাঁর প্রথম ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জয়লাভ করেন।
ইতিমধ্যে মেসি প্রথম ফুটবলার হিসেবে চারবার ব্যালন ডি’অর পুরস্কার লাভ করেছেন। বার্সেলোনার হয়ে তিনি গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৩০০তম গোল করেন। মেসি এখন পর্যন্ত (১০জুলাই ২০১৩) বার্সেলোনার হয়ে ৩৭৯ ম্যাচে ৩১৩টি গোল করেন ও আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে 90 ম্যাচে 36 গোল করেছেন।)

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে