“তামিম ইকবাল” চট্টগ্রামের ছেলের কীর্তি।

0
93

“তামিম ইকবাল”১৯৮৯ সালে ২০শে মার্চ চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি উচ্চতায় ৫.১০ ফিট। তিনি একজন সফল ওপেনার ব্যাটসম্যান। তিনি বাংলাদেশের সিনিয়র প্লেয়ারদের মধ্যে অন্যতম।তার সম্পুর্ণ নাম “তামিম ইকবাল খান”।তিনি বা হাতি বোলার। তিনি অনেক সময় বাংলাদেশের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।তিনি বিবাহিত, তার স্ত্রীর নাম ” আয়েশা সিদ্দিকা”। তার একটি ছেলেও আছে, যার নাম আব্রাহাম।”তামিম ইকবাল”এর মায়ের নাম “নুসরাত ইকবাল”। বাবার নাম ” ইকবাল খান”। তিনি তার স্কুল জিবন অতিবাহিত করেন “সানশাইন গ্রামার স্কুল” থেকে। তিনি O এবং A লেভেলে পড়াশুনা করেন।”তামিম ইকবাল”বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন।

তামিম ইকবালচট্টগ্রামের ছেলের অতীত কাহিনী

ক্রিড়াজগতের ক্রিকেট এবং ফুটবলে চট্রগ্রামের খান পরিবারের নাম খুবই নিবিড়ভাবে সংযুক্ত।চট্রগ্রামের খান পরিবারের বড় ছেলে ইকবাল খান ছিলের একজন নামকরা ফুটবলার এবং কোচ,অন্যদিকে খান পরিবারের আরেক ছেলে আকরাম খান ছিলেন বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের সদস্য এবং টেস্ট বাংলাদেশের প্রথম ৬ আসে তার ব্যাট থেকেই,আকরাম পরবর্তী যুগে খাঁন পরিবারের হাল ধরেন নাফিস ইকবাল।ইঞ্জুরী আর বাজে ফর্মের কারনে নাফিজ ইকবাল নিজের ক্যারিয়ারকে বেশি দূর নিয়ে যেতে পারেননি।তবে একজন ঠিকই পেরেছেন তিনি হলেন তামিম ইকবাল খান।

credit: ndtv.com

বর্তমানে বাংলাদেশের সেরা অপেনার এবং সেরা ব্যাটসম্যানের তালিকা করলে সবার আগেই আসবে তামিমের নাম।বাংলাদেশের ক্রিকেটের ৯০ ভাগ রেকর্ডই নিজের করে নিয়েছেন তামিম ইকবাল।

২০০৫ সালের অর্নুদ্ধ ১৯ দলের হয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭১ বলে ১১২ রানের ঝড়ো ইনিংসের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সবার নজরে আসেন তামিম ইকবাল।সময় বাড়ার সাথে সাথে ঘরোয়া ক্রিকেট ভয়ডরহীন ক্রিকেটখেলে নির্বাচকদের নজর কেড়ে ২০০৭ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে ওয়ানডেতে অভিষিক্ত হন,অভিষেকের ম্যাচে তেমন আলো ছড়াতে না পারলে ও ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে সে সময়ের সেরা বোলার জহির খানদের বিপক্ষে তামিমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বদরবারে নিজেকে মেলে ধরেন তামিম ইকবাল।সময় বাড়ার সাথে সাথে তামিম হয়ে উঠেন আরো ভয়ঙ্কর।২০১০ সালের সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইংলিশের দাপুটে বোলাদেরকে ব্যাট হাতে নাস্তানাবুদ করে ওর্ল্ড টাফোর্ড এবং লর্ডসে টানা দুই সেঞ্চুরী করেন।

ক্রিকেটের তীর্থস্থান খ্যাত লর্ডসে সেঞ্চুরীর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম লেখান তামিম ইকবাল।তামিম ইকবাল ২০১০ সালের ধারাবাহিক পারফর্মম্যান্সের কারনে ২০১১ সালের উইজডেনের বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন তামিম ইকবাল।২০১০ সালটা তামিমের স্বপ্নের মতো কাটানোর পর ২০১১ সালে কিছুটা খারাফ ফর্মের কারনে ঘরের মাটিতে এশিয়া কাপের দল থেকে বাদ পড়ার পর চাচা আকরাম খানের পদত্যাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এশিয়া কাপের স্কোয়ডে ফিরেই টানা চার ম্যাচে চার ফিফটি করে রাজসিক প্রত্যাবর্তন করেন তামিম।২০১৩-১৪ সালে ঘরের মাঠে টানা ব্যর্থতা এবং তামিমের ছোট ছোট ইনিংসগুলো আবার ও তামিম বিরোধী সমালোচনা ক্রিকেটঙ্গানে মুখরিত হতে থাকে।এরপর কোচ শেন জার্গেনশেন এবং ক্যাপ্টেন মুশফিকের ওয়ানডে থেকে বিদায়ের পর নতুন কোচ এবং ম্যাশের অধীনে তামিম নিজেকে আবারো ফিরে পেতে থাকেন।২০১৫ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৫ রানের ইনিংস ছাড়া তেমন বড় ইনিংস খেলতে না পারার কারনে তামিমের সমালোচনা তামিম হটাও মানবন্ধনে রুপ নেয়।তবে সকল সমালোচনাকে পিছনে ফেলে ঘরের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে ২ সেঞ্চুরীর এবং টেস্টে ক্যারিয়ারের সেরা টেস্ট সর্বোচ্চ ২০৬ রান করে সমালোচনাকারীদের মুখ বন্ধ করে দেন।২০১৫ সালের পাকিস্তান সিরিজ থেকে ক্রিকেট বিশ্ব দেখছে নতুন এক তামিম ইকবালকে।গত দুই বছরে তামিম নিজের ক্যারিয়ারকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।২০১৬ সালে ভারতে অনুষ্টিত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারের একমাত্র সেঞ্চুরী তুলে নেন তামিম।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট জয়ে তামিমের সেঞ্চুরী,এবং শ্রীলংকার বিকক্ষে তামিমের ম্যাচসেরা ৮২ রানেই ভর করে শততম টেস্টের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।এ বছরের ফেব্রুয়ারীতে তামিম আন্তজাতিক ক্রিকেটে ১০ বছরে পা রাখে।তামিমের দীর্ঘ ১০ বছরের ক্যারিয়ারে ভয় ডরহীন ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতে অসংখ্য রেকর্ডের পাশাপাশি নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকা সিরিজের ১ম ওয়ানডেতে তামিম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ১ম,বিশ্বের ৭৫ তম এবং ১৯ তম অপেনার হিসেবে ১০০০০ হাজার রানের মাইলফলকে পোঁছেছেন।
যে কোন লক্ষ্যে পোঁছাতে একটি কেন্দ্র বিন্দুতে থাকা প্রয়োজন,বর্তমানে তামিম সে কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে এখন সেটাকে বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বে ক্রিকেটে নিজেকে ছাড়িয়ে যাবার পালা।

বেষ্ট অফ লাক বস তামিম ইকবাল।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে