ইরফান খানের জীবন কাহিনী

0
143

কাল রাতে যখন ইরফান খানের উইকিপিডিয়া পেজ এ গিয়েছিলাম লেখা ছিলো ‘Irrfan Khan is an Indian Actor’ কিন্তু আজ হঠাৎ করেই সেটা Irrfan Khan ‘Was’ an Actor. বিষয়টা অদ্ভুদই লাগে।

ইরফান খান জন্মগ্রহণ করে রাজসস্থানের এক মুসলিম পরিবারে। পিতা টায়ার এর বিজনেস করতেন। ইরফান ছোট বেলায় কিন্তু এক্টরের স্বপ্ন দেখতেন না। সে আর তার বন্ধু সতিশ শর্মা অনেক ভালো ক্রিকেটার ছিলেন। তার ফোকার ক্রিকেট ক্যারিয়ারেই ছিলো। সিকে নায়ুডু টুর্নামেন্টে আন্ডার ২৩ দলে সুযোগ পান। এর দ্বারা তার ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে খেলার পথ খুলে যেতো। কিন্তু টাকার অভাবে তা আর হয়ে উঠেনি। ১৯৮৪ সালে নিজের MA ডিগ্রি করার সময় National School Of Drama তে স্কলারশিপ পান। সেখান থেকেই তার অভিনেতা হওয়ার ১ম ধাপ। এরপর মুম্বাই এ এলেন। যেখানে প্রায় সবাই কেই এসে স্ট্রাগল করতে হয়। এই স্ট্রাগল অবশ্য অনন্যা পান্ডের মতো না। রিয়েল স্ট্রাগল। এইসময় অনেক কাজই করেছেন তিনি। এর মধ্যে আছে এয়ার কন্ডিশন রিপেয়ারিং।

মুম্বাই এ মুভ করার পর টেলিভিশন সিরিয়াল গুলোতে অভিনয় কর‍তে শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে উল্লখযোগ্য ছিলো চানাকেয়া,ভার‍ত এক খোজ। এছাড়া একটা সিরিজ যার নাম ডার এটাই তিনি সিরিয়াল কিলারের ও অভিনয় করেছেন। একসময় অভিনয় ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন কারণ সেসময় সেভাবে রেসপন্স বা উন্নতি হচ্ছিলোনা ক্যারয়ারের৷ এরপর ১৯৮৮ সালে মিরা নায়ার তাকে সালাম বোম্বেতে ছোট্ট একটা রোল অফার করেন। সেখান থেকেই তার সিনেমার ক্যারিয়ার শুরু। ইরফানের ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ক্রিটিকালি ক্লেইলমড মুভিতে বেশি অভিনয় করেছেন। ১৯৮৯ ও ১৯৯০ ২ বছরে আরো ২ টি ফিল্মে কাজ করলেন। কিন্তু এগুলোতে দর্শকের চোখে আসতে পারেননি তিনি। ১৯৯৮ সালে করলেন সাচ এ লং জার্নি। এগুলা দিয়েও সেভাবে পরিচিত হতে পারেননি। এই অসফল মুভিগুলার পরে নিজের জাত চেনানোর জন্য একটা মুভি পেয়েই গেলেন তিনি। আসিফ কাপাডিয়া তাকে দ্যা ওয়ারিওর মুভিতে অভিনয় এর সুযোগ দেন। সেখান থেকেই মূলত পরিচিতি পাওয়া তার।

স্ত্রী সুতপা সরদার এর সাথে ইরফান

ইরফানের ১ম বলিউড লিড মুভি আসে ২০০৫ সালে রগ দিয়ে। সেসময় তার পারফোমেন্স অনেক প্রসংশিত হয়েছিলো। সেসময় এক ক্রিটিক্স বলেছিলেন ‘ ইরফানের চোখ তার শব্দের চেয়ে বেশি কথা বলে’। ২০০৭ সালে মেট্রো মুভির জন্য সাপোর্টিং রোলে ফিল্মফেয়াত এওয়ার্ড পান। ২০০৯ সালে স্লামডগ মিলিওনারিতে পুলিশ অফিসারের রোলের সুযোগ পান। এছাড়া নিউ ইয়ার্ক,আই লাভ ইউ,পান সিং এসব মুভিতে কাজ করেন তিনি সেসময়। বলিউডের সাকসেসের পরেও টেলিভিশন ক্যারিয়ার বাদ দেননি তিনি। ২০১০ সালে ইন ট্রিটমেন্ট সিরিজের ৩য় সিজনে অভিনয় করেন তিনি। ২০১২ সালে এমাজিং স্পাইডার ম্যান ও Life of a Pi এ অভিনয় করেন তিনি। ২০১৩ সালে লাঞ্চবক্স মুভি করেন এটার জন্য তিনি ক্রিস্টোফার নোলানের ইন্টারস্টেলার মুভিতে একটি রোলকে না করে দিয়েছিলেন। এরপর গুন্ডে,পিকু,জুরাসিক ওয়ার্ল্ড সহ আরো অনেক মুভিতে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে পিকু উল্লেখযোগ্য। হাইদার এরটা ক্যামিও বলা যায়। ২০১৭ সালে আংরেজি মিডিয়াম ও কারিব কারিব সিংগেল ২টাতেই অভিনয় করেন। হিন্দি মিডিয়াম চীনে হিউটজহিট হয়। এছাড়া দুলকারের সাথে কার ওয়ান মুভিও করেন তিনি। এর আগে মাদারি মুভিতে অভিনয় করেন যেটা বক্স অফিসে ফ্লপ ছিলো বাট এ গ্রেট ফিল্ম। তার শেষ মুভি আংরেজি মিডিয়াম। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের ডুব মুভিতেও অভিনয় করেছেন।

ক্যারিয়ারে এওয়ার্ড এর কমতি নেই তার। ফিল্মফেয়ার আছে ৪টা। আইফা,স্টার স্ক্রিন এওয়ার্ড সহ আরো অনেক। সবচেয়ে বড় কথা ‘Paan Singh Tomar’ এর জন্য জিনি ন্যাশনাল এওয়ার্ড পান। ক্যারিয়ারে মেজর এওয়ার্ড সংখ্যা ৩২! ফিল্মি ক্যারিয়ারে বক্স অফিস সফলতা কম। বেশির ভাগ ভালো মুভিগুলা বক্স অফিস ফ্লপ। ট্যালেনটেড অভিনেতাদের জন্য বলিউডে মনে হয় এমনই হয়। ইরফান খান বাড়িতে এসেই নিজের বেডরুমে যেতেন সেখানে গিয়ে বই পরতেন। প্রতি সপ্তাহে অন্তত সে একটা হলিউড স্ক্রিপ্ট পড়ে। নিজের কাজ নিজে করে। নিজের ক্যারেক্টার বোঝার চেষ্টা করে। ২০১২ সালে নিজের নামে আরেকটা R যোগ করেন। করে Irfan রাখেন। বলেন নিজের নামে অতিরিক্ত একটা আর তার কাছে ভালো লাগে।

কারওয়ান মুভির শুটিং করার সময় অসুস্থ হয়ে পরেন। পরে সকলকে জানান তার Neuroendocrine tumor হয়েছে। এরপর চিকিৎসা এর জন্য লন্ডনে যান। আর আজকে মারা যান। বয়স ৫৩ বছর।

৩০ বছরের অধিক বছর মুভিতে কাজ করেছেন। বেচে থাকলে আরো করতেন। ইরফান বলেছিলেন ‘I want to entertain people but with some substance’ এবং তিনি সেটা করেও দেখিয়েছেন। বলিউড ইরফান খানের মতো আর কাউকেই পাবেনা। কিন্তু তার কাজ গুলো দেখে সকলে অনুপ্রানীত হবে অবশ্যই। আমাদের কাছে তো তার স্ক্রিন প্রেজেন্সই বড়। হোক সেই মুভিটা যতোই খারাপ বা ভালো। তার অভিনয় দিয়েই তো তিনি অমর হয়ে থাকবেন। লিজেন্ডস নেভার ডাই। ডি ডে মুভিতে একটা ডাইলোগ বলেছিলেন ‘Sirf Insaan Galat nahi hote, Waqt bhi galat ho sakta hai’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে